সোনারগাঁয়ে রেলওয়ের সম্পত্তি দখল করে আ’লীগ নেতার মার্কেট নির্মাণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১:২৮ পিএম, ৭ ফেব্রুয়ারী,সোমবার,২০২২ | আপডেট: ০৯:১১ এএম, ২১ নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,২০২৪
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে সাবেক মদনগঞ্জ-নরসিংদী রেল সড়কের মাঝের চর এলাকায় রেলওয়ের সম্পত্তি দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। গত কয়েকদিন ধরে ট্রাকের মাধ্যমে বালু ফেলে এ জমি দখল করে নিচ্ছে। রেলওয়ের জমিতে বালু ফেলার সময় তার সন্ত্রাসী বাহিনী লাঠিসোটা নিয়ে পাহাড়া দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ বাধা দিতে আসলেই হামলা ও মামলার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজসে এসব জমি দখল হয়ে যাচ্ছে। লিজ দেয়া না হলেও তাদের সাথে আর্থিক লেনদেনের কারনে বেহাত জমি উদ্ধারের তৎপরতা নেই।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছে, সাবেক মদনগঞ্জ-নরসিংদী রেল সড়কে বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি রেল লাইন থেকে দু’পাশে ১২০ ফিট চওড়া। কোথাও কোথাও ৪শ ফিট রয়েছে। তবে রেল স্টেশন এলাকায় ২ হাজার ফিট এলাকা জুড়ে জমি রয়েছে। রেলওয়ে শুধুমাত্র কৃষিভিত্তিক জমি লিজ দেয়া হয়। বানিজ্যিক লিজ অনেক আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে কৃষি লিজও বন্ধ রয়েছে। কৃষি লিজ নিয়ে শুধুমাত্র কৃষি আবাদ করতে পারবেন। শ্রেণী পরিবর্তন করে কেউ রাস্তা, বিপনী বিতান, পাকা কোন স্থাপনা, মার্কেট নির্মাণ বা দেয়াল দিয়ে দখলে নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। এগুলো করে থাকলে সবই অবৈধ দখলদার হিসেবে গন্য হবেন। বর্তমানে মদনগঞ্জ থেকে নরসিংদী সড়কে সকল দখলদারই অবৈধ হিসেবে দখলে আছে। তবে কোন শিল্প মালিক জমির শ্রেণী পরিবর্তন করতে হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে। এসড়কে কোন শিল্প মালিক শ্রেণী পরিবর্তনের কোন প্রকার অনুমতি নেননি। ফলে সকল শিল্প মালিক অবৈধ দখলদার হয়ে রাস্তা নির্মাণ করেছেন। তাদের বিষয়ে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জামপুর ইউনিয়নের মাঝেরচর এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা পরিচয়দানকারী রাসেল আহমেদ খোকন মাঝেরচর বাস ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ে থেকে কোন প্রকার লিজ না নিয়েই মার্কেট নির্মাণ করছেন। মার্কেটের দোকান বিক্রি হবে বিজ্ঞাপন দিয়ে ওই স্থানে তিনি বিশাল আকৃতির বিলবোর্ড সাটিঁয়েছেন।
এলাকাবাসী জানান, রাসেল আহম্মেদ খোকন এলাকার নিরীহ মানুষের রেলওয়ে থেকে কৃষি লিজ নেওয়া সম্পত্তিগুলো ক্ষমতার দাপটে দখল করে নিয়েছে। সে নিজেকে একজন আওয়ামীলীগ নেতা পরিচয় দেন। রাসেল আহমেদ খোকনের মাঝেরচর এলাকায় রেলওয়ের সড়কের পাশ্ববর্তী তার একটি জমি রয়েছে। ওই জমিসহ সে একটি মার্কেট নির্মাণ করার বিলবোর্ড সাঁটিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কৃষক জানান, রাসেল আহমেদ খোকন জোরপূর্বক তার জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে গেছেন। বাধা দিতে গেলে মারধর ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন। এছাড়াও রেলওয়ের সম্পত্তিতে বালু ফেলার সময় তার সন্ত্রাসী বাহিনী লাঠিসোটা নিয়ে পাহাড়া দেয়। কেউ বাধা দিতে আসলে তাকে মারধর করা হয়।
অভিযুক্ত রাসেল আহমেদ খোকন জানান, আমার নিজস্ব জায়গায় মার্কেট নির্মাণ করছি। তবে মার্কেটের যাওয়ার রাস্তাটি রেলওয়ের জায়গায়। জায়গাটি পতিত থাকায় বালু দিয়ে ভরাট করেছি।
বাংলাদেশ রেওলয়ের ঢাকা বিভাগের ষ্টেট অফিসার নজরুল ইসলাম জানান, সাবেক মদনগঞ্জ-নরসিংদী সড়কটি রেলওয়ের পরিত্যাক্ত থাকায় দখলদাররা দখল করেছে। তবে কেউ রেলওয়ের কেউ আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত থাকলে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ দখলের মাধ্যমে মার্কেট নির্মাণের স্থান শিঘ্রই দখল মুক্ত করা হবে।